গাজী নজরুলের এমপি পদ পুলিশের তদন্ত, আদালত ও ইসির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে: স্পিকার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় থাকা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তার সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ পুলিশের তদন্ত, আদালত ও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলটি বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদকে জানায়। তবে শুধু রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয় না। নির্বাচন কমিশনও আগে জানিয়েছিল, এ বিষয়ে সংসদ থেকে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স প্রয়োজন।
এর মধ্যে গত রোববার রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পরে আদালত গাজী নজরুলকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রীকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে, গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ২১ সেপ্টেম্বর জানান, সংসদ সচিবালয় থেকে স্পিকারের কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি এখনো কমিশনে পৌঁছায়নি। তাই এ মুহূর্তে কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ নেই।
সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান মামলা, আদালতের কার্যক্রম এবং সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর তার এমপি পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
