গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে জামায়াতের গণমিছিল
✍️ নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে গণমিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।
গণমিছিলে দলটির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতারা ছাড়াও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দাবি এবং গণভোটের ফলাফল নিয়ে বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন: দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই
সমাবেশে তিনি বলেন, জুলাইয়ের পরিবর্তনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, গণভোটে দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাই জনগণের এই রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে অগ্রাহ্য করা হলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না। তাঁর ভাষ্য, যারা জনগণের রায় মেনে নিতে অনাগ্রহী, তাদের গণতান্ত্রিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বিএনপির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দলটি যদি গণভোটের ফলাফলকে সমর্থন না করে, তাহলে তাদের গণতান্ত্রিক অবস্থান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, জনগণের মতামতকে সম্মান জানানো প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব।
আরও পড়ুন: বর্তমান সংসদের দিকে দেশের ৩৬ কোটি চোখ নিবদ্ধ: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল
সমাবেশে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি দ্রুত জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া উচিত।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পারস্পরিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
গণমিছিলে অংশ নেওয়া নেতারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে গণতান্ত্রিক সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা রাজনৈতিক সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। তাদের দাবি, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
➡️ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে একমত, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূতের বৈঠক
➡️ ভুলের মাশুল তারেক রহমানকে দিতেই হবে: গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
