কাল থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, অনলাইনেই করতে হবে বুকিং

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আগামীকাল (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। তবে জাদুঘর পরিদর্শনের জন্য আগে থেকেই অনলাইনে নিবন্ধন, নির্ধারিত সময় (টাইম-স্লট) বুকিং এবং টিকিট সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের
এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের দিনটি শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। পরে গণমাধ্যমকর্মীরাও জাদুঘরটি ঘুরে দেখার সুযোগ পান।
অনলাইনে বুকিং ছাড়া প্রবেশ নয়
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের ‘জুলাই ৩৬’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আগে থেকেই একটি অ্যাকাউন্ট খুলে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর নিজেদের সুবিধামতো নির্ধারিত টাইম-স্লট নির্বাচন করে বুকিং সম্পন্ন করতে হবে। বুকিং নিশ্চিত হওয়ার পর অনলাইনেই টিকিট কেটে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাদুঘরে প্রবেশ করা যাবে।
কর্তৃপক্ষের মতে, এই পদ্ধতির ফলে একসঙ্গে অতিরিক্ত দর্শনার্থীর চাপ কমবে এবং নিরাপত্তা ও দর্শনব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।
টিকিটের মূল্য
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাদুঘরে প্রবেশের জন্য—
- প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিট: ৫০ টাকা
- শিশুদের টিকিট: ২৫ টাকা
টিকিট শুধুমাত্র অনলাইনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, আত্মত্যাগ এবং গণমানুষের অংশগ্রহণের ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, দলিলপত্র, ব্যবহৃত সামগ্রী, স্মারক এবং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাদুঘরটি শুধু অতীতের একটি আন্দোলনের স্মৃতি বহন করবে না; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র, অধিকার এবং গণআন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে।
আগামীকাল থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সাধারণ দর্শনার্থীরা অনলাইনে বুকিং সম্পন্ন করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।
