আগামী বছরই শুরু হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

The current image has no alternative text. The file name is: Web-Image-24-scaled.png
ছবি: সংগৃহীত

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, আগামী ২০২৭ সালেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। কৃষিকাজ, মাছ ও হাঁস চাষসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া সার ডিলাররাই এখনও দায়িত্বে রয়েছেন। বিএনপি সরকারের সময়ে নতুন কোনো ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

তিনি জানান, আগের ডিলারদের বাতিল না করে শূন্য পদে নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য দ্বিতীয় পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় পরিপত্রের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ইউনিয়নে ইউএনওর মাধ্যমে একজন করে ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষক ও সাধারণ মানুষ সহজে সার সংগ্রহ করতে পারেন।

বেশি দামে সার বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, নির্বাচনের আগে এ কর্মসূচি নিয়ে নানা সমালোচনা হলেও বর্তমানে বিভিন্ন উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একসময় অল্প গভীরতাতেই পানি পাওয়া গেলেও বর্তমানে অনেক এলাকায় ২০০ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বরেন্দ্র অঞ্চলের কিছু এলাকায় ৬০০ থেকে ৭০০ ফুট গভীরেও পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন নদীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল মরুকরণের ঝুঁকিতে পড়ছে। কুড়িগ্রামে ৫৪টি এবং পঞ্চগড়ে প্রায় ৫০টি নদী থাকলেও এর অনেকগুলো বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।

ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার পানি নিশ্চিত করা হলে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বক্তব্যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শকে মানবজাতির জন্য সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। তাঁর শিক্ষা সামাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *