এই সরকার কৃষকের সরকার, কেউ সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারবে না: কৃষিমন্ত্রী

সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, বাজারে বর্তমান চাহিদার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সার মজুদ রয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল আয়োজিত প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, একটি পক্ষ সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। বরাদ্দ থাকা সারও পুরোপুরি উত্তোলন করা হচ্ছে না। তবে কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা সম্ভব হবে না। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাজারে যে পরিমাণ সারের চাহিদা রয়েছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি সার সরকারি গুদামে মজুদ আছে।
আরও পড়ুন: কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর পরিবার পেল ৩ লাখ টাকা করে অনুদান
কৃষকের গুরুত্ব তুলে ধরে আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনীতি শক্তিশালী হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই কার্ড চালু হলে একজন কৃষকের কত জমিতে কী ফসল চাষ হচ্ছে এবং তার কী পরিমাণ সার প্রয়োজন—এসব তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। এর ভিত্তিতে আগাম পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে। কৃষকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কৃষি কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মিনি কোল্ড স্টোরেজের উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নত করা গেলে মৌসুমে কম দামে বিক্রি হওয়া কৃষিপণ্য পরবর্তী সময়ে সংরক্ষণ করে কৃষক ন্যায্যমূল্য পেতে পারেন। টমেটো, গাজরসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজ আরও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে সারা বছর বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানির দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কৃষিপণ্য আমদানি করতে হলে তা হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফা খান এবং প্রকল্প পরিচালক ড. আবদুর রহিম।
মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
