৯ বছরের শাসনের অবসান, পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচ

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন। পদত্যাগের পর আগামী ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ তৈরি হয়েছে তার।
ভুচিচ দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথও তৈরি হয়েছে।
২৫ অক্টোবর সার্বিয়ায় আগাম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশটির সরকার ৯ সেপ্টেম্বর সংসদ ভেঙে দিয়ে এই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। নির্বাচনে ভুচিচ তাঁর দল এসএনএসের নেতৃত্বাধীন তালিকায় থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
আরও পড়ুন: জামায়াতের উত্থান দেশে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে: নুরুল হক নুর
ভুচিচের পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো, যখন দেশটিতে প্রায় দুই বছর ধরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের রেলস্টেশনের একটি ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর ওই আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল। পরে আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও যুক্ত হন।
ভুচিচের সরকার দুর্নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী-সমর্থিত রাজনৈতিক আন্দোলনও আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পদত্যাগের পর সার্বিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠিত হতে হবে।
ভুচিচ তার বিদায়ী বক্তব্যে গত দুই মেয়াদে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জনকারী সরকারকে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে হবে।
