জুলাই বিক্রেতাদের নিয়ে কড়া সমালোচনা রাশেদ খানের

জুলাই বিক্রেতাদের’ কড়া সমালোচনা রাশদ খানের
রাশেদ খাঁন | ছবি: সংগৃহীত ও মানবজাগরণ সম্পাদিত

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব রাশেদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ‘জুলাই বিক্রেতা’ বলে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতায় থাকার সময় তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের বিচার, শহীদ পরিবারগুলোর খোঁজখবর এবং প্রতিশ্রুত সংস্কারের বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।

পোস্টে রাশেদ খান এক শহীদের বাবার বক্তব্য উদ্ধৃত করে লেখেন, ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তুলেছেন—‘আপনারা এখন পাঁচ মাসের সরকারের দোষ দিচ্ছেন। অথচ আপনারা প্রায় দুই বছর ক্ষমতায় ছিলেন। আপনাদের হাতে ক্ষমতা ছিল, ড. ইউনূসের হাতেও ক্ষমতা ছিল। তখন বিচার করেননি কেন? আমাদের খোঁজ নেননি কেন? মাতুয়াইলে ১৭ জন শহীদের কবর, সেখানে একদিনের জন্যও যাননি কেন?’

রাশেদ খানের দাবি, ওই বক্তব্য দেওয়ার সময় মঞ্চে উপস্থিত ব্যক্তিরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং শহীদের বাবাকে থামিয়ে দেন। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘কারণ মঞ্চে বসে থাকা জুলাই বিক্রেতাদের মুখ কালো হয়ে যাচ্ছিল।’

পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্টরা জনগণকে অবমূল্যায়ন করেছেন এবং ভেবেছেন মানুষ সবকিছু ভুলে যাবে। তার ভাষ্য, জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি আরও লেখেন, যদি তারা সত্যিই এত জনপ্রিয় ও শক্তিশালী হতেন, তাহলে নেপালের তরুণদের মতো নিজেরাই রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পারতেন। কিন্তু বাস্তবে তারা সংসদীয় রাজনীতি টিকিয়ে রাখতেও অন্য দলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেন।

রাশেদ খান পোস্টে নাহিদ ইসলাম-এর একটি পুরোনো বক্তব্যও উল্লেখ করেন। তার দাবি, নাহিদ ইসলাম একসময় বলেছিলেন, ‘আর যাই করি, জামায়াতের সঙ্গে জোট করব না। জামায়াতের নেতৃত্বকে এ দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।’ অথচ এখন তিনি নিজেই জামায়াতের আমিরের নেতৃত্বকে গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খান। পোস্টের শেষ অংশে তিনি আরও দাবি করেন, গত ১৮ মাসে যারা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়েছেন এবং মানুষকে অবমূল্যায়ন করেছেন, তাদের সেই রাজনৈতিক আচরণের মূল্য এখন দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, বিএনপির ক্ষমতার ‘১০ ভাগের ১ ভাগ’ ক্ষমতাও যদি তাদের হাতে থাকত, তাহলে ভিন্নমতের মানুষ দেশে থাকতে পারতেন না বলেও তিনি দাবি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *