মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সরকারের কাছে তাসনিম জারার একাধিক প্রশ্ন

মিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাসনিম জারা। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুরের নিম্নআয়ের মা ও শিশুদের নামমাত্র খরচে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল।
তাসনিম জারা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন, টিকা সংরক্ষণ ও টিকাদানের তথ্য সংরক্ষণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষ্য, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় টিকা সংরক্ষণের ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং টিকার রেজিস্টারও লুট হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, টিকার রেজিস্টারে কোন শিশু কোন টিকা পেয়েছে এবং কোন টিকা বাকি রয়েছে, তার তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এই রেজিস্টার না থাকলে অনেক শিশুর পরবর্তী ডোজ সময়মতো দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন তাসনিম জারা। তিনি প্রশ্ন করেন, এলাকার যেসব গর্ভবতী মা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্থ ব্যয় করে আলট্রাসনোগ্রাম করাতে পারেন না, তারা এখন কোথায় এই সেবা পাবেন।
তাসনিম জারা আরও বলেন, ওই সপ্তাহেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল। হাম নিয়ে দেশে উদ্বেগের মধ্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরুর আগের রাতে কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঘটনাটি নিয়ে সরকারের কাছে কয়েকটি প্রশ্নও রাখেন তিনি। তার প্রশ্ন, থানার কাছাকাছি এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক মানুষ একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিলেও পুলিশ কেন তা ঠেকাতে পারেনি। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া এর আগে ওই জায়গা দখলের চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি করে তাসনিম জারা প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দখলচেষ্টাকারীরা কীভাবে আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেল। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমি ও স্থাপনা দখল নিয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য, দলীয়ভাবে বহিষ্কার বা বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সবশেষে টিকা ও টিকার রেজিস্টার লুটের ঘটনাকে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হিসেবে না দেখে সরকারি টিকাদান কর্মসূচির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করেন তাসনিম জারা। তিনি জানতে চান, মিরপুর এলাকার শিশুদের টিকাদানের তথ্য পুনরুদ্ধার এবং যেসব শিশুর টিকা বাকি রয়েছে, তাদের শনাক্ত করার দায়িত্ব এখন কে নেবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কী উদ্যোগ নেবে।
