পাকিস্তানের হাসপাতালে আগুন, প্রাণ গেল ১৪ নবজাতকের

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য (এমসিএইচ) ওয়ার্ডে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আগুনটি ভবনের তৃতীয় তলায় নবজাতকদের রাখার অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার সময় সেখানে অন্তত ১৫ জন নবজাতক ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়। একজন শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
রাজধানী প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৬টা ৫৪ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। খবর পাওয়ার প্রায় সাত মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ছয়টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স কাজ করে।
উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাতের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে হাসপাতালের একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ত্রুটি বা কম্প্রেসর বিস্ফোরণের বিষয়টি সামনে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও এসির ত্রুটিকে আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত নয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর উদ্ধারকারী দল হাসপাতালের ভেতরে শীতলীকরণ ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালায়। নবজাতকদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ভয়াবহ এই ঘটনায় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গভীর শোক প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ, হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
ঘটনাটি পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ড হিসেবে সামনে এসেছে। সরকারি হাসপাতালগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী উদ্ধারের সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
