মিরপুরে টিকাকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনাকারী রাড্ডা এমসিসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
শফিকুল ইসলাম বলেন, টিকাদান কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সাইবার আইন নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পথে হাঁটবে না বর্তমান সরকার: জাহেদ উর রহমান
তিনি বলেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের সঙ্গে এসব কেন্দ্র সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে কোনো ধরনের হামলা বা ভাঙচুরের কারণে যাতে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে মিরপুরের রাড্ডা টিকাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা নিয়ে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। তবে সেই বিরোধের কারণে রাতের আঁধারে একটি টিকাদান কেন্দ্র ভাঙচুর করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানকে এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হলে এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
রাড্ডা এমসিসিএইচ-এফপি সেন্টারটি মিরপুর এলাকায় শিশুদের টিকাদানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি কেন্দ্রটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে কোনো বিরোধ বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে কিংবা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে হামলা হলে একদিকে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ অবস্থায় রাড্ডা টিকাকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে টিকাদান কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

Pingback: ‘ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কোনো আপস বা আঁতাত নয়’: নেতাকর্মীদের সতর্ক করলেন ফরহাদ আজাদ