ফ্যামিলি কার্ড ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধও প্রয়োজন: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ড ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধও প্রয়োজন: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন | ছবি: সংগৃহীত

পরিবারকে স্বাবলম্বী করা, সন্তানদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বিকাশও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ম মানুষকে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বুঝতে সহায়তা করে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থের শিক্ষা যথাযথভাবে জানা, অনুসরণ ও জীবনে ধারণ করলে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করা, সন্তানকে আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষা দেওয়া, খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সবল করে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই একটি পরিপূর্ণ জাতি গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশও প্রয়োজন।

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শামীম কায়সার লিংকন বলেন, পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মায়েদের এবং কৃষি কার্ডের মাধ্যমে বাবাদের সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুদের আনন্দমুখর শিক্ষা, খেলাধুলা এবং নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি করাও জরুরি। কারণ নৈতিক মূল্যবোধ একটি দায়িত্বশীল ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশকে ধর্মপ্রাণ মানুষের দেশ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় সব মানুষই কোনো না কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস ধারণ করেন। তাই প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থের শিক্ষা ভালোভাবে জেনে তা জীবনে প্রয়োগ করলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে শামীম কায়সার লিংকন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বকে সম্মান করতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন ও রাজনৈতিক ভিশন পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া ধারণ করে দলকে সংগঠিত করেন এবং একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিশন ও মিশনের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু পরিকল্পনা বা ভিশন থাকলেই হবে না, তা বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট মিশন প্রয়োজন। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বিকাশের মাধ্যমে উদার, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠাই মন্ত্রণালয়ের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, দেশের সব ধর্ম ও মতের মানুষের নিজ নিজ অবস্থান থেকে মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের স্বাধীনভাবে কথা বলার পরিসর তৈরিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *