বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সের ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে উদ্‌যাপন

কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সের ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ অতিথিরা
কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সের ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ অতিথিরা

ঢাকা, ৮ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ২য় বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সের ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে উদ্‌যাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসের কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম (অব.)।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, এমপি। এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা সংরক্ষণের গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতা অর্জনে সামরিক ও বেসামরিক জনগণের অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং তা যথাযথভাবে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা ও নিজের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনগণের যুদ্ধ। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এ সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিভিন্ন অনালোচিত ঘটনা যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু কয়েকটি ভাষণ বা নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির অবদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অসংখ্য সাধারণ মানুষ, তরুণ, সৈনিক ও কর্মকর্তা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্মৃতি

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি সামরিক সদস্যদের প্রতিরোধ এবং পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের যুদ্ধে অংশগ্রহণের বিষয়টিও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-যুবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সামরিক ও বেসামরিক মানুষের সাহসিকতা, দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন যুদ্ধ ও সম্মুখসমরের স্মৃতিও তুলে ধরা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা, প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধ পরিচালনা এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গের মানসিকতার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।

নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা শুধু রাষ্ট্রের নয়, সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশনের এ আয়োজনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক ইতিহাস, যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে স্মরণ করার পাশাপাশি সামরিক ও বেসামরিক অঙ্গনের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ

অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানসহ সামরিক ও বেসামরিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়। পরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্ব পরিচালনা করা হয়।

এ সময় বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোর্সের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরেন। কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা অর্জন এবং মুক্তিযুদ্ধের সামরিক ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান বিনিময়ের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সের ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *