ব্যাংক খাতের এক-তৃতীয়াংশ অর্থ লোপাট, ২ কোটি আমানতকারী বিপাকে: গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকিং খাতের এক-তৃতীয়াংশ অর্থ লোপাট হয়েছে। এর ফলে প্রায় ২ কোটি আমানতকারী নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
বুধবার (৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংক আয়োজিত ‘বাংলা কিউআর’ বিষয়ক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: একজন মানুষ (শেখ হাসিনা) কত নির্লজ্জ/বেহায়া হলে তার সকল কৃত কর্মকে অস্বীকার
গভর্নর বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, যাকে সাধারণভাবে খেলাপি ঋণ বলা হলেও তিনি এটিকে ‘চুরি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতের এক-তৃতীয়াংশ অর্থ হারিয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় ২ কোটি আমানতকারী বিপাকে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে একটি সুস্থ ও কার্যকর ব্যাংকিং ব্যবস্থা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের বিষয়ে গভর্নর জানান, অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।
মোস্তাকুর রহমান বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ, যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য বড় ধরনের সতর্কসংকেত। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৮ মাস মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, পরিকল্পনার প্রথম ছয় মাসে বুলেট পেমেন্টের মাধ্যমে ঋণ নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া হবে। পরবর্তী এক বছরে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন এবং অর্থ ঋণ আদালত আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন কাঠামো গড়ে তোলা হবে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই আইন দুটি পাস হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে গভর্নর আরও জানান, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সারাদেশে ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে, ২৮ বছরের কম বয়সী তরুণ-তরুণীকে নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে।
