আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতা মনির খানের মৃত্যু

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পটুয়াখালী জেলা শাখার সদস্য ও সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ওরফে মনির খান (৪৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১ মাস কারাবন্দি থাকার পর সম্প্রতি তিনি একাধিক মামলায় জামিন পান। তবে তার মৃত্যুর পর আইনগত বিষয় নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এইচ এম সারোয়ার হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলায় জামিন হয়নি।
মনির খানের স্ত্রী সালমা জাহান গণমাধ্যমকে জানান, চলতি বছরের ৯ জুন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় মনির খান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ১৪ জুন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দুই দিন পর তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
গত ২৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে থাকা কয়েকটি মামলায় আদালত জামিন মঞ্জুর করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে জামিনসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে পরবর্তীতে আইনজীবীর বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা যায়।
সম্প্রতি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনির খানের হাতে হাতকড়া পরা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সালমা জাহান জানান, ছবিটি তার স্বামীরই ছিল। চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পাওয়ার পর পরিবারের অনুরোধে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তার হাতের হাতকড়া খুলে দেন।
মনির খান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বাহালগাছিয়া গ্রামের প্রয়াত আব্দুল খালেক খানের ছেলে। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময়ে সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় একটি মামলায় মনির খান ও তার স্ত্রী সালমা জাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মনির খানকে আরও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অন্যদিকে, সালমা জাহান তিনটি মামলায় প্রায় ছয় মাস কারাভোগের পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
