‘বাংলাদেশ নিজের পক্ষে দাঁড়াতে চায়’—জাতিসংঘে তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি, গণতন্ত্র, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি, নারী ক্ষমতায়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।

তবে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সম্ভাবনার পাশাপাশি দেশের অধিকার, নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থের বিষয়গুলো আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতায় অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের মতো বিষয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব বিষয়ে বৈশ্বিক মঞ্চে আরও স্পষ্ট কূটনৈতিক অবস্থান প্রত্যাশিত ছিল।

পানি ও নদী প্রসঙ্গে শুধু সহযোগিতার কথা না বলে ন্যায্য হিস্যা, আন্তর্জাতিক আইন, উজান ও ভাটির দেশের অধিকার এবং জনগণের নিরাপত্তার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সীমান্তে প্রাণহানি ও নিরাপত্তার বিষয়টিও শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মনে করেন পাটওয়ারী। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশের নাগরিকের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

তারেক রহমানের ভাষণে ‘Bangladesh First: Bangladesh for All’ বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এই নীতিকে বাস্তবে একটি স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থনির্ভর পররাষ্ট্রনীতিতে রূপ দেওয়ার কৌশল আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা যেতে পারত। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র ও জোটের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বার্থ কীভাবে অগ্রাধিকার পাবে, সে বিষয়ে আরও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের ক্ষেত্রে তারেক রহমানের অবস্থানকে তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন পাটওয়ারী। নিরাপদ প্রত্যাবাসন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মিয়ানমারের ভূমিকার বিষয়টি সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে দেশের নিজস্ব সীমান্ত ও আঞ্চলিক স্বার্থের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

তরুণদের কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা তৈরি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা আরও বিস্তৃত বলে পোস্টে উল্লেখ করেন পাটওয়ারী। তাঁর মতে, নিরাপদ সীমান্ত, ন্যায্য পানির অধিকার, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার অংশ।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশ কারও সঙ্গে শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্ক চায় না। বরং সমমর্যাদা, ন্যায্য অধিকার ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে প্রতিবেশী ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলাই প্রত্যাশিত।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সহযোগিতা প্রয়োজন, তবে তা ন্যায় ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থও সমান গুরুত্ব পাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশ কোনো রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হতে চায় না; বরং নিজের অধিকার, স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে চায়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি, গণতন্ত্র, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি, নারী ক্ষমতায়ন ও তরুণদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। তবে এসবের পাশাপাশি বাংলাদেশের অধিকার, নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

নিজের ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তারেক রহমানের বক্তব্যে ‘Recovery, Restoration and Reconstruction’ বা ৩-আর ধারণা এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে ‘Bangladesh First: Bangladesh for All’ ধারণাটিও সামনে এসেছে।

তবে তার মতে, বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা বলার পাশাপাশি দেশের অধিকার, নিরাপত্তা ও সার্বভৌম আকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলো আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল।

পাটওয়ারী তার পোস্টে দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং বাংলাদেশের কৌশলগত স্বার্থের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, এসব বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা এবং জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে এসব বিষয়ে আরও দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান প্রত্যাশিত ছিল।

পানি ও নদীর প্রশ্নে শুধু সহযোগিতার কথা না বলে ন্যায্য হিস্যা, আন্তর্জাতিক আইন, উজান ও ভাটির দেশের অধিকার এবং জনগণের নিরাপত্তার বিষয়গুলো আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরার সুযোগ ছিল বলেও মনে করেন তিনি।

সীমান্তে প্রাণহানি ও সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেছেন এনসিপির এই নেতা। তার মতে, এটি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয় নয়; বাংলাদেশের নাগরিকের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গেও বিষয়টি জড়িত।

‘Bangladesh First’ প্রসঙ্গে পাটওয়ারী বলেন, এই নীতি কীভাবে স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থনির্ভর পররাষ্ট্রনীতিতে রূপ নেবে, তার একটি পরিষ্কার কৌশলগত দিকনির্দেশনা আরও প্রত্যাশিত ছিল। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের কৌশলগত স্বার্থ কীভাবে অগ্রাধিকার পাবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের ক্ষেত্রে তারেক রহমানের অবস্থানকে তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট উল্লেখ করে পাটওয়ারী বলেন, নিরাপদ প্রত্যাবাসন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মিয়ানমারকে সংকটের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি বক্তব্যে এসেছে। তবে বাংলাদেশের নিজস্ব সীমান্ত ও আঞ্চলিক স্বার্থের প্রশ্নেও একই ধরনের দৃঢ়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

তরুণদের কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা শুধু চাকরি বা বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন পাটওয়ারী। তাঁর মতে, তরুণরা এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে, নদীর পানির ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে, সীমান্তে নাগরিক নিরাপদ থাকবে এবং বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশই নেবে।

পাটওয়ারী আরও বলেন, বাংলাদেশ কারও সঙ্গে শত্রুতা চায় না। সমমর্যাদা, ন্যায্য অধিকার ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলাই বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সম্পর্ক ন্যায় ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে তা সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে নয়।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশ কারও প্রতিপক্ষ হতে চায় না; বরং নিজের অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়াতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *