নগর বিধিমালা সংশোধন হলে বাড়বে ফ্ল্যাটের সংখ্যা, কমতে পারে দাম

নগর বিধিমালা সংশোধন হলে বাড়বে ফ্ল্যাটের সংখ্যা, কমতে পারে দাম

নগর ও আবাসনসংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করা হলে দেশে ফ্ল্যাটের সংখ্যা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলক কম দামে ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, বিদ্যমান নগর বিধিমালার কিছু জটিলতার কারণে আবাসন খাতের অনেক কাজ এগোতে পারছে না। বিশেষ করে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) সংক্রান্ত নিয়মের কারণে আবাসন ও ফ্ল্যাট নির্মাণে সমস্যায় পড়ছেন ডেভেলপাররা। বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা পর্যালোচনা করছেন।

তিনি জানান, ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বিধিমালা এবং নগর গৃহায়ণ বিধিমালা—দুটি বিধিমালাকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার প্রক্রিয়া চলছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত এগুলো অনুমোদন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন হলে আবাসন নির্মাণের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি ফ্ল্যাটের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসতে পারে বলে জানান তিনি।

রাজউকের প্ল্যান অনুমোদনে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা বা প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।

তিনি বলেন, বর্তমানে একটি ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থায় আলাদাভাবে যোগাযোগ করতে হয়। এতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে হয়রানির শিকার হতে হয় এবং আবাসন খাতের কাজও বাধাগ্রস্ত হয়।

নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে একটি জায়গায় আবেদন করার মাধ্যমে দ্রুত নকশা অনুমোদনের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও রাজউকের পক্ষ থেকে সম্মতি রয়েছে বলেও তিনি জানান।

প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মেয়াদ ও বাজেট অযৌক্তিকভাবে বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি নজরদারি করবে বলে জানান তিনি।

শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কাজের যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে। কোনো অনিয়ম, অস্বচ্ছতা বা দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অযথা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অপরিকল্পিত নগরায়ন ঠেকাতে ব্যবস্থা

অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ ও নগরায়ন বন্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। তবে নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করলেও নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে জটিলতার কারণে যারা সমস্যায় পড়েছেন, তাদের বিষয়ে বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত জরিমানা বা অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবনগুলো বৈধ করার সুযোগ রাখা যায় কি না, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *