গত ছয় মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যে: আইনমন্ত্রী

গত ছয় মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে সব অংশীজনের মতামত নিয়ে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আমেরিকান সংবিধান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে মানবাধিকার সুরক্ষায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। গত ছয় মাসের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে দেখা যাবে।
আরও পড়ুন: টিসিবির কার্ড থেকে বাদ ৫৯ লাখ অযোগ্য উপকারভোগী
সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই কোনো একক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আইন পরিবর্তন করা হবে না। সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রয়োজনীয় সংশোধনী চূড়ান্ত করা হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বাকস্বাধীনতার চর্চার ক্ষেত্রে যাতে কারও সম্মানহানি বা অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, সংশোধিত আইনে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে মানবাধিকার কমিশনকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে সাংবিধানিক শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের যেকোনো ট্রাইব্যুনালের তুলনায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে রয়েছে। এখানে কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করাই মূল উদ্দেশ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেনামী সংবাদমাধ্যমের নামে ফটোকার্ড ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আইন প্রণয়নের দর্শন ব্যাখ্যা করে আসাদুজ্জামান বলেন, আইন কোনো স্থির বিষয় নয়। মানুষের প্রয়োজন ও সময়ের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করতে হয়। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করবে সরকার।
