এআই প্রশিক্ষণ না দিলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার: শিক্ষামন্ত্রী

এআই প্রশিক্ষণ না দিলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

শিক্ষার্থীদের মেধাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হলে দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পরবর্তী ধাপ, ন্যানোটেকনোলজি, রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে এগিয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তাদের মেধা ও দক্ষতার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে। নিজেদের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, এআই, রোবটিক্স ও ন্যানোটেকনোলজির মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ শিক্ষার্থীদের দিতে হবে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের এআই বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা করার আহ্বান জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে তারা যে স্বাধীনতা পেয়েছে, তার যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। কোন লক্ষ্য নিয়ে এগোবে এবং কীভাবে নিজের জীবন প্রতিষ্ঠিত করবে—এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি নবীনদের উদ্দেশে আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের এই সময়টিকে শুধু নবীন বরণ হিসেবে না দেখে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও দেশের জন্য দায়িত্ব নেওয়ার সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সম্প্রতি তিনি চীন সফর করে দেশটির কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চীনের মডেল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কোন ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করবে, কোথায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং কারা উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত হবে—এসব বিষয় শিক্ষা ও শিল্প খাতের সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষায় পরিবর্তন আনতে এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *