ফরিদপুরে হাসান হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ চারজনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে হাসান হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ চারজনের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে হাসান শেখ হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগমসহ চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. শরীফ উদ্দীন চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন শাহজাহান মাতুব্বর, ফারুক বিশ্বাস ও চান্দু শেখ। তাদের সবার বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামে।

রায় ঘোষণার সময় শাহজাহান মাতুব্বর, ফারুক বিশ্বাস ও চান্দু শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তবে নিহতের স্ত্রী ফরিদা বেগম পলাতক থাকায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলার এজাহার ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে হাসান শেখের সঙ্গে ফরিদা বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি মিলে কাজ করার সময় কয়েকজনের সঙ্গে ফরিদার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে—এমন অভিযোগ জানতে পারেন হাসান। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৯ মে রাতে শাহজাহান মাতুব্বর ফোন করে হাসানকে ডেকে নেন। এরপর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। চার দিন পর ১৩ মে বিকেলে ঝাউখোলা গ্রামের একটি আখক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় হাসানের বাবা ইমান উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক মিরাজুর রহমান চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত বুধবার মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।

ফরিদপুর বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস এম আজিজুর রহমান বিকু বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর দাবি, অনৈতিক সম্পর্কের জেরে পরিকল্পিতভাবে হাসানকে হত্যা করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *