শরীয়তপুরে তিন সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ, বিএনপি নেতা বলেন ‘তোমরা লেখবা, আর আমরা পিটাইমু’

শরীয়তপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) তাহসিনা বেগমের পক্ষে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহের সময় তিন সাংবাদিককে বিএনপির নেতাকর্মীরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ‘শরীয়তপুরের সাধারণ জনগণ’-এর ব্যানারে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। তাদের অভিযোগ, রোববারের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসককে হেয় করেছেন।
হামলায় আহত সাংবাদিকরা হলেন—দ্য ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর সংবাদদাতা জাহিদ হাসান, নিউজ২৪ ও জাগো নিউজের জেলা প্রতিনিধি বিধান মজুমদার এবং দৈনিক মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ বরকত মোল্লা।
আরও পড়ুন: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব রওশন আরা বেগম
আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, সমাবেশের ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় ১০ থেকে ১২ জন তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাদের ঘুষি, চড় ও লাথি মারা হয়। পরে তারা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
সাংবাদিক জাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, ভিডিও ধারণের সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং পরিচয়পত্র ছিঁড়ে ফেলেন। পরে তাকে চড় ও ঘুষি মারা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
নিউজ২৪ ও জাগো নিউজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার বলেন, প্রতিবাদ সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহের সময় বিএনপির একটি দল তার ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে তিনি ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
অন্যদিকে সাংবাদিক বরকত মোল্লা অভিযোগ করেন, আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী তার ওপর হামলা চালালে বাঁ হাতে আঘাত লাগে।
তবে সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে আরিফুজ্জামান মোল্লা বলেন, ‘কোনো সাংবাদিককে মারিনি আমরা। তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। সে সময় হাতের মোবাইল পড়ে গেছে।’
পড়ুন: তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করলেন পুলিশ সদস্য
তাকে সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আরও তো মারবো। শুধু এখন না, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে পারে। অনেকে লিস্টে আছে। ইন শা আল্লাহ, আল্লাহর রহমতে সন্ধ্যার মধ্যে আরও খবর পেয়ে যাবা।’
একপর্যায়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আর আমরা পিটাইমু।’
এদিকে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন এবং এভাবে তার প্রত্যাহার দাবি করতে পারেন না। তার ভাষ্য, সাংবাদিকতার আড়ালে কিছু সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদের দোসর বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। এ কারণেই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। তবে সমাবেশে কোনো সাংবাদিক নিগৃহীত বা মারধরের শিকার হয়েছেন কি না, তা তার জানা নেই বলে জানান তিনি।
এর আগে শনিবার রাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের একটি সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেওয়ার পর রোববার একদল সাংবাদিক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল হোসেন সরদার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ ঘটনায় বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম এবং শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহানের সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
