জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা: প্রতিমন্ত্রী

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো আইনি বা নীতিগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি দীর্ঘদিনের। শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার, আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে এ দাবি একদিন বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার আহ্বান আইজিপির
শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করেন মীর শাহে আলম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়নের পথ তৈরি হতে পারে।
সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অবসরে যাওয়া প্রায় এক লাখ শিক্ষকের অবসরকালীন ভাতা পরিশোধের লক্ষ্যে দুই হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে প্রতিবছর অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে শিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের দাবি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে নতুন পরিকল্পনার কথাও জানান মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মাসে আনুমানিক পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আয় করতে পারবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
