মায়ের আইফোন ঘিরেই কি অপ্রতিম হত্যা? রহস্য উন্মোচনের দাবি পুলিশের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার ঘটনায় রহস্য অনেকটাই উদ্ঘাটিত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পুলিশ ধারণা করছে, মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় দুই কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। একটি ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। পরে ওই কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক কিশোরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে অপ্রতিমের মায়ের আইফোন উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় পরে আরও এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আইফোনের জন্যই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের পুরো কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, রোববার দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ীর গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে সে মায়ের আইফোনটি সঙ্গে নিয়ে বের হয়েছিল। অপ্রতিম বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিখোঁজের পর বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজার পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করে পুলিশ। পরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া আলামত যাচাইয়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
