ছাত্রত্ব শেষ হলেও হলে থাকার সুযোগ পেলেন জাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য আবাসিক হলের নীতিমালায় বিশেষ ছাড় দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো প্রতিনিধির ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলেও তিনি নির্বাচিত পদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আবাসিক হলে থাকার অনুমতি পাবেন।
তবে সিদ্ধান্তটি প্রকাশের পরই ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা দাবি করেছেন, বিদ্যমান আবাসিক নীতিমালা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধির সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্টস ডিসিপ্লিন অর্ডিন্যান্স-২০১৮’ অনুযায়ী, স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ত্যাগ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোর্স সম্পন্ন করতে না পারলে নিয়মিত ছাত্রত্বও শেষ হয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নীতিমালা অনুযায়ী, চার বছর মেয়াদি স্নাতক কোর্স শেষ করার জন্য সর্বোচ্চ ছয় বছর এবং এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর সময় নির্ধারিত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসু সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হলে থাকার অনুমতি চেয়ে জাকসুর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত আবেদন করা হয়নি।
এদিকে, জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতুর ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও হলে অবস্থান করা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ক্যাম্পাসে আলোচনা চলছিল। অন্যদিকে, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. মাজহারুল ইসলাম গত জুন মাসে আবাসিক হল ছেড়ে দেন। এই প্রেক্ষাপটেই প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, গঠনতন্ত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া এমন নির্দেশনা জারি করা জাকসুর মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষ্য, এটি হলে অনিয়মিত অবস্থানকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, অন্য সব শিক্ষার্থীর মতো নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও ছাত্রত্ব শেষ হলে আবাসিক হল ছেড়ে দেওয়া উচিত।
জাবি শাখা ছাত্রদলের নেতারাও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। সংগঠনটির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর দাবি করেন, অতীতে ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীকে হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই তুলনায় নতুন সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, সিদ্ধান্তটি নিয়ে বক্তব্য জানতে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি প্রশাসনিক সভায় বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে। তবে জাকসুর পক্ষ থেকে এ ধরনের সুবিধা চেয়ে কোনো লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
